রানার প্রতিবেদন : জীবনে এই প্রথমবার হাত জোড় করে মা দুর্গার সামনে দাঁড়ালেন এবং ভক্তিভরে মন্ত্রোচ্চরন করে অঞ্জলি দিলেন নুসরত জাহান জৈন। গতকাল সুরুচি সংঘে তাকে অঞ্জলি দিতে দেখা যায়। মুসলিম ধর্মের মেয়ে হয়ে নুসরত বিয়ে করেছেন জৈন ধর্মের ছেলে নিখিলকে। বিয়ের পর তার মাথায় সিঁদুর আর গলায় মঙ্গলসূত্র পরা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে বিস্তর। মৌলবিদের একাংশের রোসের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন : ত্রিকোন প্রেমের জেরেই বিরাট-রোহিত দ্বন্দ্ব ? মুখে কুলুপ ঋত্বিকার

সেই সময় নুসরত বলেছিলেন, ” আমি হিন্দু-মুসলিম না জৈন সেটা বড় কথা নয়, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমি ভারতীয়। আর সিঁদুর কিংবা মঙ্গলসূত্র ভারতীয় নারীর ভূষন, সুতরাং আমি যা করেছি তারমধ্যে কোনও অন্যায় আছে বলে মনে করিনা।” শুধু তাই নয়, সংসদে হাতজোড় করে সকলে প্রণাম জানিয়ে শপথবাক্য পাঠ করার পর, লোকসভার স্পিকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, এটাই ভারতীয় পরম্পরা।


এবার জৈন স্বামীকে নিয়ে হিন্দু ধর্মের পুজোয় অঞ্জলি দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এলেন নুসরত। কিন্তু তিনি অঞ্জলি দিতে এলেন কেন? নুসরতের উত্তর শুনে সকলেই বিস্মিত। তার কথায় আমি যেমন ভারতীয় তেমনি আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন বাঙালি। আর আমি চাই নিখিল বাঙালি জীবন সম্পর্কে জানুন,বুঝুক এবং একাত্ম হয়ে যাক। বাঙালি মানে তো শারদীয় উৎসব, সেই উৎসবের সঙ্গে নিখিলকে পরিচয় করাতেই আমি ওকে নিয়ে এখানে এলাম অঞ্জলি দিতে।”

আরও পড়ুন : খুলে গেল ইমরানের মিথ্যার মুখোশ, ক্ষিপ্ত হয়েই বিমান ফেরত নিয়েছেন সুলতান

নুসরত যখন এসব বলছেন তখন হা করে শুনছিল সকলেই। এক কর্তা বলে উঠলেন, সুরুচি সংঘের পুজো সত্যি এবার অন্য মাত্রা পেল। নুসরত বলে উঠলেন, মাকে নিয়ে ভাগাভাগি কেন? মা তো সকলের, নিখিলের- আমার সকলের। তারপর হাসতে হাসতে নুসরত যোগ করলেন, নিখিলকে আমি ষোলআনা বাঙালি বানিয়ে ছাড়বো, দেখুন কি সুন্দর ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ছে, বলতে বলতেই নিখিলের হাত ধরে মন্ডবের পাশে রওনা হলেন ভোগের প্রসাদ নিতে।