রানার বাংলা : কেন্দ্রীয় সরকার বারবার করে বলছে, যারা শরণার্থী তারা যে সময়ই ভারতে আসুক না কেন, তাদের এই দেশের নাগরিক হিসাবে গ্রহণ করা হবে। যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। তাদের সঙ্গে কি করা হবে? তাদের হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে নতুবা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে সেই সঙ্গে সরকার প্রদত্ত বাকি সব সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে। যেমন রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ব্যংক একাউন্ট,স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ নানাবিধ সরকারি সুবিধা বাতিল হবে। সরকার যে নাগরিত্ব বিল তৈরি করেছে, এবং যে বিলটি এখন পাশ হবার অপেক্ষায় সেই বিলে বলা হয়েছে, যারা ২০১৪ সালের আগে শরণার্থী হিসাবে ভারতে এসেছেন তারা সবাই হাতে হাতে নাগরিকত্ব পাবেন, যারা এর পরে এসেছেন তারা ছয় বছর ভারতে বসবাসের পর নাগরিকত্ব পাবার অধিকারী হবেন।


এখন প্রশ্ন হলো কারা শরণার্থী এবং কারা অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রসংঘ শরণার্থীদের যে সংজ্ঞা বেঁধে দিয়েছে সেটা মেনেই তারা চিহ্নিত করনের কাজ করবেন। এবার দেখা যাক রাষ্ট্রসংঘ কাদের শরণার্থীর স্বীকৃতি দেবার কথা বলেছে। রাস্ত্রসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী বলা হয়েছে,” যদি কেউ নিজের জাত, ধর্ম , রাজনৈতিক বিস্বাস কিংবা সামাজিক কোনও সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য মামলার মুখে পড়েন কিংবা তাকে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়তে হয়, এসব কারণে তাকে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে হয়, এবং নির্বিঘ্নে ফিরে যাবার মতো যদি কোনও পরিস্থিতি না থাকে তবে যে দেশে সে আশ্রয় চাইবে, সেই দেশ তাকে আশ্রয় দেবে।” এই সংজ্ঞাকেই হাতিয়ার করে কেন্দ্র বলেছে, প্রতিবেশি বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে যারা এদেশে আশ্রয় পেতে এসেছে বা আসে তারা সবাই হিন্দু, খ্রিস্টান, জৈন, শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা নিজেদের ধর্ম পরিচয় অক্ষুন্ন রাখতে গিয়ে বিপন্ন হচ্ছেন, একারণেই নিজেদের ভিটে ছেড়ে ভারতে আসতে হয়েছে, এবং হচ্ছে।


কিন্তু যে সব মুসলিম ১৯৫১ সালে এই সংজ্ঞা নির্ধারণের আগে থেকেই ভারতে বসবাস করছেন, বা ৫১ সালের আগে এদেশে এসেছেন তারা সবাই ভারতীয়। কিন্তু এরপর যারা এসেছেন তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হবেন। কেন? যে সব মুসলিম দেশ থেকে এরা এসেছেন সেখানে এরা সংখ্যালঘু ধর্মের নন, একারনে নির্যাতন আক্রমনের মুখে পড়তে হয় না। তারা আসেন শুধুমাত্র উন্নত অর্থনীতির দেশে ভাগ্যানুসন্ধানের জন্য। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংজ্ঞায় তারা শরণার্থী নন। সুতরাং তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসাবেই চিহ্নিত করা হবে।