রানার প্রতিবেদন : তাকে সভামঞ্চে আসতে দেওয়া হয়নি। বালুরঘাট আর রায়গঞ্জের দুটো সভাই রবিবার বাতিল করতে হয়েছে যোগী আদিত্য নাথকে। কিন্তু দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ভাষণ দেবার জন্য বেছে নেন সেলফোনকেই। ফোনে ভাষণ দিলেন আর উদগ্রীব হয়ে শুনলো অগণিত বিজেপি কর্মী-সমর্থক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কার্যত আগুন ঝড়লো ফোনে। বললেন, মমতা সরকারের দিন শেষ। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়াটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তৃণমূল সরকারের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। এই সরকারটা শুধু জনবিরোধী নয়, শুধু অগণতান্ত্রিক বললেও এদের কম বলা হয়, মমতার সরকার রাষ্ট্র বিরোধীও বটে। এরা প্রতি মুহূর্তে রাষ্টের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে চলেছে।


রবিবার উত্তরবঙ্গে দুটো সভা করার কথা ছিল যোগীর। একটি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে অন্যটি দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। ঠিক ছিল যোগী শিলিগুড়ি পর্যন্ত বিমানে এসে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আসবেন বালুরঘাট। বারোটায় সেখানে সভা করে হেলিকপ্টারে যাবেন রায়গঞ্জ, ওখানে সভা শেষ করে আবার ফিরে যাবেন বাগডোগরা , সেখান থেকে ধরবেন লখনৌগামী বিমান। কিন্তু দুই জেলাতেই হেলিকপ্টার নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেননি দুই জেলা শাসক। বাধ্য হয়ে সভায় যোগ দেবার সিধান্ত বাতিল করেন যোগী। কিন্তু গণতন্ত্র বাঁচাও সভায় যারা তার কথা শুনতে হাজির হয়েছিলেন তাদের পুরোপুরি নিরাশ না করে, ফোনে নিজের বক্তব্য জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী দুপুরে দুই জায়গাতেই ফোনে লাইভ শোনানো হয় তার ভাষণ। যে ভাষণে আগাগোড়া মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ছিলেন যোগী।


এদিন যোগী তার ভাষণে দলের কর্মী সমর্থকদের বলেন, হতাশার কোনও জায়গা নেই। আপনাদের লড়াইয়ের পাশে আছে গোটা দেশ। ওরা চাইলেও আমাকে আটকাতে পারবে না। আমি আসবোই, আপনাদের সঙ্গে দেখা করবোই, কেউ আটকে রাখতে পারবে না। আজ হোক কিংবা কাল, আমি আসছি, আপনাদের লড়াইয়ে সঙ্গে থাকার জন্য। এমনভাবে লড়াই করুন যাতে আগামীতে তৃণমূল সরকারের বিসর্জনের বাজনা গোটা দেশ শুনতে পায়। যে সরকার রাজ্যের প্রশাসনকে দলের ক্যাডার বাহিনী বানিয়ে ফেলেছে, সেই সরকার দেশের স্বার্থের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকারক। যারা ব্রিগেডের সভায় মমতার হাতে হাত রেখে গণতন্ত্র উদ্ধারের স্লোগান দিয়েছিলেন, তারাও দেখুক , মমতা গণতন্ত্র বলতে কি বোঝেন। যোগী বলেন, তিনি আসবেন এবং বাংলায় গণতন্ত্র বাঁচানোর অভিজানেও যোগ দেবেন।