রানার বাংলা : এখন অপেক্ষা নতুন চমকের। এমনই এক অভিনব ঘোষণা করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। যে সিদ্ধান্তে চমক থাকবে গোটা দুনিয়ার জন্য। মোদি সরকার ঠিক করেছে ৫ কিলোমিটার চওড়া আর ১৪০০ কিলোমিটার লম্বা দীর্ঘ সবুজ প্রাচীর তৈরি করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় গোটা বিশ্বে এক নতুন উদাহরণ তৈরি করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি।

আরও পড়ুন : মমতা হিজাব পড়লে ভালো আর নুসরত অঞ্জলি দিলেই খারাপ ? তোপ দাগলেন তসলিমা

গুজরাট থেকে শুরু হয়ে দিল্লি -হরিয়ানা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ এলাকা জুড়ে তৈরি হবে ঘন বনাঞ্চল। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ব্যাপক উন্নতি হবে, অন্যদিকে উত্তর ভারত এবং পাকিস্তান থেকে আসা ধূলিঝড়ের হাত থেকে এই বিস্তীর্ণ এলাকাকে রক্ষা করা যাবে। সূত্রের খবর, নয়া এই বিস্ময়কর প্রকল্প নিয়ে এখন বিভিন্ন মন্ত্রকের কর্তাদের উৎসাহ তুঙ্গে। তৈরি হচ্ছে গোটা কর্মকান্ডের নীল নকশা।


পোরবন্দর থেকে পানিপথ, আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশে ছুঁয়ে এগুতে থাকবে এই সবুজ প্রাচীর। পরিবেশবিদরা বলছেন, গুজরাট-রাজস্থান-হরিয়ানা এবং দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশে ব্যাপক ভুমিক্ষয় চলছে। জমির উর্বরতা ধ্বংস হয়ে সেই জমি ক্রমশ পতিত হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে থাবা বসাতে পারে মরুভূমি। এই আতঙ্ক করছেন পরিবেশবাদীরা।

আরও পড়ুন : নারদ নিয়ে আবার ঝাপাচ্ছে সিবিআই, কলকাতায় আসছে ম্যাথু, উদ্বেগে তৃনমূল

সেই সময় সরকারের এই সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। সরকারি কর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে, পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সম্প্রতি এক (কপ-১৪) সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সেই সম্মেলনেই সিধান্ত হয়, সব দেশই এবার সবুজায়নের জন্য কোমর বেঁধেই মাঠে নামবে। ভারত সরকার তার এই নতুন পরিকল্পনা হয়ত খুব দ্রুতই ঘোষণা করতে চলেছে।


একদশক আগে প্রথম এধরণের সবুজ প্রাচীর নির্মাণের সিধান্ত নেওয়া হয়েছিল আফ্রিকায়। কিন্তু ওই প্রকল্পের সঙ্গে যেহেতু বেশ কয়েকটি দেশ যুক্ত সেহেতু কাজ চলছে শম্বুক গতিতে। ভারতের এই প্রকল্প একান্ত ভারত সরকারের অধীনে নির্মাণ হবে বলে, এই কাজ মসৃন গতিতেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। ভারতে এই মুহূর্তে পতিত জমির পরিমান ৩২৮.৭ মেগা হেক্টর। অর্থাৎ দেশের মোট জমির ২৯.৩ শতাংশই পতিত জমি। ২০১৬ সালে ইসরোর সমীক্ষা রিপোর্ট জানিয়েছে, গুজরাট-রাজস্থান-দিল্লি এই দীর্ঘ বিস্তৃত এলাকায় ৫০ শতাংশ জমি পতিত হয়ে গেছে এবং খুব দ্রুত এই জমি মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একইসঙ্গে ভারতের পরিবেশের উন্নতি, মরুভূমির গ্রাস থেকে ভূমি রক্ষার কাজ সম্ভব হবে এই সবুজ প্রাচীরের মাধ্যমে।