রানার প্রতিবেদন : সরকার গঠন নিয়ে মহারাষ্ট্রে অচলাবস্থা দূর করতে কঠোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কিছুক্ষন আগেই আদালত জানিয়েদিল, আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার বিকেলে পাঁচটার মধ্যে সমস্ত বিধায়কদের শপথ গ্রহন পর্ব শেষ করতে হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার, যিনি অস্থায়ীভাবে মনোনীত হবেন রাজ্যপালের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন : বাদশার মুকুট খোয়া গেল শাহরুখের, সিংহাসনে নয়া সম্রাট, ঘোষণা ট্যাম-এর

নিয়ম অনুযায়ী বিধানসভার বর্ষীয়ান বিধায়ককেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সকলকে শপথবাক্য পাঠ করান। আদালত জানিয়েছে, শপথ গ্রহণ পর্ব শেষ হবার পর বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষার পর্ব শুরু করতে হবে। আর এই পুরো পর্বের স্বচ্ছতা রাখতে টেলিভিশনে পুরোটাই লাইভ দেখাতে হবে। এমনকি আস্থা ভোট হবে প্রকাশ্য, কোনও গোপন ব্যালট ব্যবহার করা যাবে না।


দীর্ঘদিন ধরে সরকার গঠন নিয়ে এই টানাপোড়েন আক্ষরিক অর্থেই গোটা দেশে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের মুখোমুখী লড়াই হয়েছিল দুই জোটের। কংগ্রেস-এনসিপি এবং বিজেপি-শিবসেনা। ২৮৮ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গড়তে দরকার ১৪৫ জন বিধায়কদের সমর্থন। বিজেপি-শিবসেনা জোট সেই সংখ্যা হস্তগত করলেও জোটে ফাটল ধরে ক্ষমতা বাটোয়ারা নিয়ে। আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার চেয়েছিল শিবসেনা কিন্তু রাজি হয়নি বিজেপি। ফলে ভেঙে যায় জোট।


শিবসেনা ক্ষমতার ভাগ না পেয়ে হাত ধরে এনসিপি-কংগ্রেসের। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর কংগ্রেস-এনসিপি রাজি হয়, শিবসেনার নেতৃত্বে সরকার গঠনে। সিধান্ত চূড়ান্ত হতেই আচমকা শনিবার ভোরে সরকার গঠন করে বিজেপি, তাকে সমর্থন দেয় অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির একটি অংশ। চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে যায় কংগ্রেস-এনসিপি। অন্যদিকে এই দুই দলই জানিয়ে দেয় অজিতের সঙ্গে দু-একজন ছাড়া কেউ নেই। তারা গতকাল নিজেদের তিনদলের বিধায়কদের এক জায়গায় এনে দেখিয়ে দেয় মোট ১৬২ জন বিধায়ক আছে তাদের তিনদলীয় জোটে। আজ সকালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, আর দেরি নয়, কাল বিকেলেই গোটা দেশের চোখের সামনেই হবে শক্তি পরীক্ষা।