রানার প্রতিবেদন : দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচিত হবার পর, ওয়াশিংটন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এলো আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা। যে বার্তায় ঝরে পড়লো গভীর উচ্ছাস। পরে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে লিখলেন,” ভারতীয়রা ভাগ্যবান যে তারা মোদির মতো একজন নেতা পেয়েছে।” এদিন দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় টেলিফোনে। মোদিকে বিশ্বের ২০টি শক্তিধর রাষ্টের সংগঠন ‘জি-২০’ সম্মেলনে যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প। আগামী ২৮ এবং ২৯ জুন জাপানের ওসাকায় বসবে এই সম্মেলন। দুই নেতার আলোচনায় ঠিক হয়েছে ওই সম্মেলনের ফাঁকেই আলাদাভাবে বৈঠক করবেন দুই নেতা।


রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তখন তাকে আমেরিকায় যাবার জন্য ভিসা দিতে অস্বীকার করেছিল ওয়াশিংটন। প্রধানমন্ত্রী হবার পর ছবিটা পাল্টে যায়। ডেমোক্রেটিক সরকার সরে গিয়ে আসে রিপাবলিকান সরকার। মাথায় বসেন ট্রাম্প। মুখোমুখি হন দুই নেতা, এই শুরু, ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে দুজনের সম্পর্ক, ভারতের স্বার্থে যে সম্পর্ককে ভরপুর কাজে লাগিয়েছেন মোদি। এমনি রাশিয়ার কাছ থেকে মিসাইল প্রতিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্য নিয়ে ভারত গড়ে তুলতে শুরু করেছে অত্যাধুনিক এন্টি মিসাইল সিস্টেম। আমেরিকার ঘোষিত অবস্থান হচ্ছে , যে দেশ রাশিয়ার এই প্রযুক্তি নেবে , তাদের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাবে আমেরিকা। সেই নিষেধাজ্ঞার জাল ছিড়ে দিয়েছেন মোদি, শুধু সম্পর্কের জোরে।


ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্বের জেরে ইরানের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা। অর্থাৎ ইরান কারো কাছে কোনও পণ্য বিক্রি করতে পারবে না, কোনও দেশ কিনতেও পারবে না। ইরানের সঙ্গে ভারতের তেল চুক্তি ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়। ফলে বিপুল লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয় ভারতের। এই অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তেল আমদানি চালিয়ে যাবার সিধান্ত নেয় ভারত। এনিয়ে হৈচৈ শুরু হলে ট্রাম্প বলেন, বন্ধু দেশ ভারতের আর্থিক ক্ষতি হোক এমনটা চান না তিনি। ফলে এক্ষেত্রে ভারতের তেল আমদানির ওপর শেষপর্য্ন্ত হস্তক্ষেপ না করাই সিধান্ত নেন তিনি।