রানার প্রতিবেদন : তিন বিধানসভায় দলের পরাজয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। দলের একজন কর্মীও কল্পনা করতে পারেননি কালিয়াগঞ্জে বিজেপির প্রার্থীকে হারের মুখ দেখতে হবে। চরম নিরাশাবাদীরাও ভেবেছিলেন ভয়ঙ্কর বিপর্যয় হলেও একটা আসন তারা পাবেন। কিন্তু এহেন ফলের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউ। কেন হলো এই বিপর্যয়? দলের সকলের মুখে যখন কুলুপ, তখন মুখ খুললেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।


কৈলাসের দাবি, এই ভোটে মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। কারন, অবাধে ভোট লুঠ করেছে তৃনমূল। ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও, তাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার করা হয়নি। রাজ্য প্রশাসন সিংহভাগ ক্ষেত্রেই এদের অলস বসিয়ে রেখেছিল। কোথাও কোথাও বুথের বাইরে রেখে দিয়েছিল তাছাড়া বেশিরভাগ বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়নি। যার ভরপুর ফায়দা তুলেছে তৃনমূল কংগ্রেস। তৃনমূল কর্মীরা রীতিমতো বুথ আগলে রেখে পুলিশের সাহায্যে নিজেদের মতো করে ভোট করিয়ে নিয়েছে।


কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এই দাবি করলেও দলের অনেক নেতাই কিন্তু মনে করছেন, বিপুল ভোটের পার্থক্য হবার পেছনে একটা বড় কারণ এনআরসি। এই ইস্যুতে তৃনমূল যেভাবে আগ্রাসী প্রচার করে মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে, তার মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে দলীয় ব্যর্থতাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এনআরসি দলের কাছে এখন শাখের করাতের মতো হয়ে উঠেছে। অসমের এনআরসিতে যাদের নাগরিকত্ব হরণ করা হয়েছে তাদের সিংহভাগ হিন্দু বাঙালি হওয়ায়, দলের মুল ভোট ব্যাংকেই ফাটল ধরেছে এরাজ্যে। অসমের এনআরসি’র ফলাফলকে সামনে রেখে মানুষকে প্রভাবিত করতে সফল হয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস।