রানার প্রতিবেদন : ইরান যদি আর কোনও বেগরবাই করে তবে গোটা দেশটাকেই ধ্বংস করে দেব। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বার্তা দেবার পর গোটা ইসলামিক দুনিয়া জুড়ে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মূল কারণ, বক্তার নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার মতিগতি বোঝা শিবেরও অসাধ্য। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে ইতিমধ্যেই মার্কিন সপ্তম নৌবহরকে আরবে নিজেদের সামরিক আস্তানায় পাঠিয়ে দিয়েছে ওয়াসিংটন। পৌঁছে গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে যুদ্ধ বিমান। রবিবারই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর টুইটারে লিখেছেন, ” ইরান যদি লড়াই করতে চায়, তাহলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে ইরান।”


ইরান-আমেরিকা সংঘাত ক্রমশ বিপদজনক চেহারা নিচ্ছে। আমেরিকা আরব সাগরের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ জাহাজ ইউএস আরলিংটন রওনা হবার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অত্যাধুনিক এই যুদ্ধ জাহাজে রয়েছে প্যাট্রিয়টিক মিসাইল। যুদ্ধ জাহাজ ইউএস আব্রাহাম লিংকন এর সঙ্গে এই নয়া যুদ্ধ জাহাজ যোগ দেবে । কাতারে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে এখন জোর তৎপরতা। এই সেনা ঘাঁটির শক্তি বৃদ্ধি করতে ইতিমধ্যে আমেরিকা থেকে উড়ে গেছে একঝাঁক বি-১৫ যুদ্ধ বিমান। ওয়াশিংটন-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলির ওপর আক্রমনের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ওখানে যুদ্ধ যান পাঠানো হচ্ছে। ইরান এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, মিথ্যা অজুহাত আর অপপ্রচারকে হাতিয়ার করে আমেরিকা তার স্বার্থ সিদ্ধি করতে চাইছে। ইরানের দাবি, আমেরিকা এই অঞ্চলে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে মনস্তাত্বিক চাপ তৈরি করে কাজ হাসিলের মতলবে আছে। এরআগে ইরান বলেছিল, তারা কোনও চাপেই মাথা নত করবে না। এও ঘোষণা করেছিল, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ পারমানবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাবার।কর্মসূচি থেকে পিছু হটবে না তেহরান।গতকালের ট্রাম্পের হুমকির পর এখন অনেকটাই সুর নরম করেছে ইরান। সেদেশের বিদেশ মন্ত্রী টুইটের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমেরিকা ভুল ধারনার শিকার, তেহরান কোনওভাবেই আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।


উদ্বেগ-উত্তেজনা বৃদ্ধির আরো বড় কারণ, আমেরিকা এখন ওই অঞ্চলে পদাতিক সেনার সংখ্যাও বাড়াতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জাহাজ বোঝাই করে সেনা নিয়ে নামানো হয়েছে ইরাকের মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে। ইরান পরমাণু বোমা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েই পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে , এই অভিযোগ ঘিরেই দুদেশের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হচ্ছে। গত বছর আমেরিকা সহ ছটি বৃহৎ শক্তিধর দেশ ইরানের সঙ্গে এনিয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু সেই চুক্তি ভেঙেই নিজেদের কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান, এই অভিযোগ তুলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে আমেরিকা। তারপরই এখন যুধং দেহি মূর্তি ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। কিন্তু ট্রাম্পের হুমকির পরই তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ইসলামিক দুনিয়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত রাস্ত্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তারা। এদিকে ইরানের তেল রফতানি আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়ায়, জ্বালানি তেলের সংকটও ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে।