বিশেষ প্রতিবেদন : উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ, নদিয়া জেলার করিমপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর। আপাত দৃষ্টিতে মাত্র তিনটি বিধানসভার উপনির্বাচন। এই ভোটের ফলাফলে কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকারের কিছুই যায় আসে না। সরকার ভাঙা গড়ায় কোনও ভূমিকা নেই তিন কেন্দ্রের ভোটের ফলে। তবু অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এই তিন কেন্দ্রের ফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য। বিশেষ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন কি ফল হয় সেটা জানার জন্য। বেশ কয়েক রকমের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।


এক, তিনটি আসন বিজেপি জিতবে। যদিও সেটার সম্ভাবনা দেখছেন কম লোক। বলছেন, কিছু না হলেও বিজেপি হারবে করিমপুর কেন্দ্রে।কারন এই কেন্দ্রে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে এগিয়ে ছিল তৃনমূল। কিন্তু যারা জিতবে বলছে তাদের দাবি, ভোটের সকালে লুঙ্গিপরা একটা পা যখন সজোরে লাথি হয়ে আছড়ে পড়লো বিজেপি প্রার্থীর পেছনে, তখনই তৃণমূলের ভোট বাক্সেও একই সঙ্গে সজোরে আঘাত লাগলো। কারন দিনভর যে আলোচনা হলো তাতে বিজেপির পক্ষেই বেশি মাত্রায় ভোটের মেরুকরণ হয়ে গেল। ওখানেই ম্যাচ বার করে নিয়েছেন জয় প্রকাশ মজুমদার। যারা বলছেন কালিয়াগঞ্জ জিতবে তৃণমূল, তারা অবশ্য দলে ভারি নয়।


কারন লোকসভায় যে বিপুল ভোটে বিজেপি ওখানে লিড নিয়েছে,সেটাকে টপকে যাবে তৃনমূল, এমন ভাবনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না, সিংহ ভাগ পর্যবেক্ষক। অতি আশাবাদী তৃনমূল দাবি করছে, এনআরসির প্রভাবে হিন্দু উদ্বাস্তু ভোট অনেকটাই সরে যাবে গেরুয়া ভোট বাক্স থেকে। কিন্তু বিজেপির দাবি, তৃনমূল সেই চেষ্টা করেছিল কিন্তু তারা সেটা প্রতিহত করতে পেরেছেন প্রচারের জোরে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে খড়গপুর কেন্দ্র নিয়ে। এই কেন্দ্রে ব্যাপক লড়াই হচ্ছে বলেই মেনে নিয়েছেন সকলে।


বিজেপির দুর্বলতা বলতে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে প্রার্থীর দিকে। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তার তুলনাই হয়না। স্বভাবতই দিলীপ ঘোষ ব্যক্তি ক্যারিশমায় যে ভোট টেনেছিলেন এই প্রার্থী সেটা পারবে না। সবাই মানছেন ভোট কমবে। কিনতু এই হিসাব কেউ দিতে পারছেন না, কমলে কতটা কমবে? এতটা কি কমবে যে বিশাল লিড মুছে গিয়ে পরাজয়ের মুখ দেখতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ফলে এই কেন্দ্রটিতে কি হবে তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি কোনও বিশেসজ্ঞই। তৃণমূলের অন্দরে মোটামুটি এটাই ধরে নেওয়া হয়েছে, তারা জিতবেন করিমপুর আর হারবেন কালিয়াগঞ্জে।


কারন করিমপুর তাদের লিড ছিল আর কালিয়াগঞ্জ কেন্দ্র তাদের বিপুল ভোটে পিছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু খড়গপুর? এই কেন্দ্রেওতো তৃনমূল বিশাল ভোটে পিছিয়ে ছিল। এই তথ্য যেমন সত্যি তেমনি তৃনমূল এটাও মনে করেছে, এই কেন্দ্রে লড়াই করা সম্ভব। যদি লড়াই করে আসনটি ছিনিয়ে নেওয়া যায় তবে, ফল হবে তৃণমূলের পক্ষে ২-১,মানে এগিয়ে তৃনমূল। মানে, বিজেপির হাত থেকে একটি আসন ছিনিয়ে নেওয়া। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, যদি বিজেপি একটি আসন পায়, তবে মানুষের কাছে বার্তা যাবে, বিজেপি হাওয়া ক্রমশ কমছে। এনআরসি নিয়ে তৃণমূলের প্রচার ফল দিতে শুরু করেছে। এবং তৃণমূলের পায়ের তলে মাটি আবার শক্ত হচ্ছে। একারণেই প্রশান্ত কিশোর নিজে টিম নিয়ে পড়েছিলেন খড়্গপুরে। এটা প্রশান্তের জন্যও অগ্নি পরীক্ষা।

কারন ২০২১ এ প্রশান্ত ম্যাজিক আদৌ কোনও কাজে আসবে কিনা তার আচঁ পাওয়া যাবে এই ভোটে। তাই সহজ অঙ্কের দুটি কেন্দ্র ছেড়ে প্রশান্ত সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন খড়্গপুরে। এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গভীর। যদি একবার খড়গপুর দখল করা যায়, তাহলে এটাই প্রচার হবে, খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতির কেন্দ্রে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করা গেলো। অর্থাৎ যিনি সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক চালে, তাকেই মাত করে দেওয়া গেল। খড়্গপুরে এতটাই মনযোগ দিয়েছেন প্রশান্ত , যে নজিরবিহীন ভাবে এই প্রথম কোনও একটি বিধানসভা উপনির্বাচনে গোটা একটা ইশতেহার ছাপিয়ে বিলি করা হলো ভোটারদের মধ্যে।