রানার প্রতিবেদন : স্পাইস জেটের একটি বিমান ১২০ জন যাত্রী নিয়ে দিল্লি থেকে যাচ্ছিল কাবুলের উদ্দেশ্যে। ভারতের আকাশ সীমা টপকে পাকিস্তানের আকাশে ঢুকতেই আচমকা তীব্র গর্জনে আকাশের বুক চিরে উদয় হয় একাধিক এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান। ভারতের যাত্রীবাহী বিমানটিকে ঘিরে নির্দেশ দেওয়া হয় নিচে নেমে আসতে। স্পাইস জেটের পাইলট জানান, এটি একটি যাত্রীবাহী বিমান, সুতরাং তাকে পথ দেওয়া হোক কাবুলের দিকে উড়ে যেতে।

আরও পড়ুন : বাবরি মসজিদের জায়গায় ৬ ডিসেম্বর থেকে রামমন্দির নির্মানের ঘোষণা

কিন্তু নাছোড় বান্দা পাক যুদ্ধ বিমানের ঝাঁক ক্রমাগত বিমানটিকে ঘিরে হুমকি দিতে শুরু করে। ভারতীয় বিমানের যাত্রীরা দেখতে পান, পাক যুদ্ধবিমান তাদের ঘিরে চক্কর মারতে শুরু করেছে। আতঙ্কে কেউ কেউ চিৎকার করে ওঠেন,অনেকেই কান্না চেপে রাখতে পারেননি। গোটা বিমানে ছড়িয়ে পড়ে হারহিম আতঙ্ক। বিমানসেবিক যাত্রীদের অনুরোধ করেন, তারা যেন বিমানের জানালায় পর্দা নামিয়ে চুপ করে বসে থাকেন। শেষপর্য্ন্ত ভারতীয় বিমানের পাইলট বোঝাতে সক্ষম হন, এটি যাত্রীবাহী বিমান। তারপর বন্ধ হয় হুমকি।


ডিজিসিএ আধিকারিকরা বৃহস্পতিবার এই তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ সে সেপ্টেম্বর। স্পাইস জেটের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটির কল সাইন দেখে পাক বায়ু সেনার সন্দেহ হয়েছিল এটি একটি যুদ্ধ বিমান। কল সাইনে লেখা ছিল এসজি-২১, ফলে বিমানটিকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছিল তারা। নির্দেশ না শুনলে ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে মাঝ আকাশেই বিমানটিকে উড়িয়ে দেবার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পাক বায়ু সেনার সন্দেহ হয়েছিল, ভারতীয় যুদ্ধ বিমান হয়ত ঢুকে পড়েছে আক্রমনের উদ্দেশ্যে। যখন পাইলট নিশ্চিত করলেন, যে এটি যাত্রীবাহী বিমান তখন হুমকি বন্ধ হলো বটে কিন্তু এফ-১৬ বিমানগুলো স্পাইস জেটকে ছেড়ে সরে গেল না। তারা বিমানটিকে ঘিরেই রাখলো এবং যতক্ষন পাক আকাশ সীমায় ছিল ততক্ষন বিমানটিকে ঘিরে ক্রমাগত চক্কর দিয়ে গেল যুদ্ধবিমানগুলি। শেষ পর্যন্ত পাক আকাশসীমা টপকে ভারতীয় বিমানটি যখন আফগানিস্তানের আকাশে ঢুকলো তখন যুদ্ধ বিমানগুলি মুখ ঘুরিয়ে চোখের পলকে দূরে মিলিয়ে গেল।