রানার প্রতিবেদন : জলপথে চিনের তৎপরতার ওপর নজরদারি করবে ভারত। এই কাজে ভারতকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে একটি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, চিনা সাবমেরিনের তৎপরতার ওপর নজরদারির জন্য বাংলাদেশ উপকূলে রেডার বসানো বসানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ তাদের উপকূলে ভারতের ২০ টি রেডার বসানোর আর্জি মেনে নিয়ে চুক্তি সই করেছে। বঙ্গপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে জলযানের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে চিন।

আরও পড়ুন : মানহানি মামলায় সুধীরকে হাইকোর্টে টেনে নিয়ে গেলেন মহুয়া

সেইসঙ্গে পরমাণু অস্ত্র বাহি সাবমেরিনের গতিবিধিও বেড়েছে অনেকটাই। এই পরিস্থিতিতে নজরদারি কঠোর করতে “সমুদ্রতট নজরদারি ব্যবস্থা” মজবুত করার কাজে ঝাঁপিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ এই ব্যাপারে ভারতকে সাহায্য করতে রাজি হওয়ায়, এই নেটওয়ার্ক অনেকটাই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এতদিন ভারতের আর্জি অগ্রাহ্য করে চলায় নজরদারি ব্যবস্থা ছিল অসম্পূর্ণ। এবার সেই কাজ সম্পুর্ন করা সম্ভব হবে।


সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে অন্তত ২০ টি শক্তিশালী রেডার বসাবে ভারত। এর সাহায্যে শুধু জলযান নয়, সমুদ্রের গভীরে ডুবোজাহাজের গতিবিধির ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে। নজরদারিতে যে ছবি পাওয়া যাবে সেটা বিশ্লেষণ করেই নিজেদের পাল্টা প্রস্তুতি নিতে পারবে ভারত। দীর্ঘ চার বছর ধরে একটানা প্রচেষ্টার ফল হিসাবে এই চুক্তি সম্ভব হলো। ২০১৫ সালে প্রথম এই প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে আমল দেয়নি ঢাকা।

আরও পড়ুন : “বিজেপি ঠেকাও” মমতার জরুরি বার্তা, রাজ্যের সব নেতাকে ডাকা হলো কলকাতায়

কূটনীতিকরা মনে করেন, চিনের সঙ্গে বেশকিছু মোটা অর্থের চুক্তি নিয়ে কথা চলছিল বলেই তারা এব্যাপারে বেজিংকে ক্ষুব্ধ করতে চায়নি। বাংলাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে চিন। বিনিময়ে তারা বাংলাদেশের উপকূলে কয়েকটি নৌঘাঁটিও তৈরি করে নিয়েছে। যেখানে নিরাপদে রাখা যাবে সাবমেরিন। ঢাকার জন্য এখন চিন এবং ভারত দুই দেশই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারা কাউকেই চটাতে চাইছে না। কারন বিদেশি অর্থ সহায়তা নিয়ে দ্রুত উন্নয়নের পথে হাটতে চাইছে বাংলাদেশ।