রানার প্রতিবেদন : সংসদ বয়কট করে তখন বাইরে জমায়েত হতে শুরু করেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। আম্বেদকরের মূর্তির সামনে তখন কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন তৃনমূল সাংসদরা। অথচ দেখা নেই সাংসদ নুসরতের। কোথায় তিনি? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তৃণমূলের সাংসদরা যখন বয়কট করে বাইরে বিক্ষোভ করেছে তখন সংসদে বসে মনোযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনছেন নুসরত। সংবিধান দিবস উপলক্ষে এদিন সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন বাইরে সংবিধান পাঠ করছিলেন সোনিয়া গান্ধী।


দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ দেখানোর পর যে যার সংসদীয় কক্ষে ফিরে যায়। নিজেদের ঘরে এসে তৃণমূলের সাংসদরা। ওদিকে তখন ভাষণ শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণ শেষ হতে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে তৃণমূলের জন্য বরাদ্দ ঘরে এসে ঢোকেন নুসরত। ওকে দেখেই সব গেল গেল রব করে ওঠেন। জানতে চাওয়া হয়, কেন তিনি বিক্ষোভ না গিয়ে মোদির ভাষণ শোনার জন্য অধিবেশন কক্ষে বসে থাকলেন? আকাশ থেকে পড়েন নুসরত। বিক্ষোভ? নুসরত জানান, তিনি এর বিন্দু বিসর্গ সম্পর্কে অবহিত নন। অথচ তৃনমূল নেত্রীর নির্দেশ ছিল এদিন বিজেপি বিরোধী বিক্ষোভ সংগঠিত করতে হবে। অভিযোগ, বিজেপি প্রতিনিয়ত দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে।


বিক্ষোভ নিয়ে নুসরত তার অজ্ঞানতার কথা জানালে সবাই মুখ চাওয়া চাউয়ি করতে থাকেন। দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ ব্যানার্জির কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন নুসরত বিক্ষোভের ব্যাপারে কিছুই জানে না বলছে? কল্যাণ বাবু সাফ জানান, তিনি সকাল আটটার সময় সকলকে এসএমএস করে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এরপর এনিয়ে নুসরতের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এসএমএস এলেও আসতে পারে, কিন্তু আজ সকালে তার এসএমএস-এর ইনবক্স ঘেঁটে দেখা হয়ে ওঠেনি। তাই এসএমএস মিস করে গেছেন। তার উত্তর শুনে কেউ কেউ আবার পুরো সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা কিন্তু কিন্তু করে বলছেন, আজকের দল বদলের যে সংস্কৃতি চলছে তাতে কারও কথাই একশ শতাংশ বিস্বাস করা খুবই কঠিন।