রানার প্রতিবেদন : রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নেবার পর থেকেই সরকারের সঙ্গে নানা ইস্যুতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর। সেই সংঘাতের প্রভাব পড়লো মঙ্গলবার বিধানসভায় সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। বিধানসভায় এসেই রাজ্যপাল বুঝিয়ে দেন রঁনং দেহি মেজাজেই আছেন তিনি। প্রথমেই তাঁকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে থাকা মুখ্যমন্ত্রীকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যান সামনে। ঢুকে পড়েন বিধকনসভা কক্ষে। ভাষণের শুরুতেই বলেন, “একমাস আগে থেকে আমি সবাইকে আমন্ত্রণ করেছি রাজভবনে সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে হবে। তারপর শেষমূহূর্তে আচমকাই ঠিক হলো রাজ্য সরকার করবে। আমি কিন্তু একমাস আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও আমি এসেছি। সময়ের সমস্যা হলেও এসেছি।”


এরপরই তিনি বলেন,” নরেন্দ্র মোদি প্রথম এই অনুষ্ট্যাহ্নের আয়োজন করার উদ্যোগ নেন। এই কারনে তাঁকে আমি ধন্যবাদ জানাই।” এই কথা বলতেই সভার কয়েকজন শ্রুতিকটু ভাবে কাশতে শুরু করেন। তবে বেশির ভাগ সদস্যই চুপ ছিলেন। কিন্তু যখন কাশ্মীর, ৩৭০ লোপের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছসিত প্রশংসা করতে থাকেন তখনই কাশি আর গলা খাকারী শুরু হয় চারদিকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হাতের ইশারায় সকলকে বারণ করেন চিৎকার করতে। সবাই চুপ করেই বসে থাকেন। কিন্তু সবটা তোলা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্য।


ভাষণ শেষ করে রাজ্যপাল জয় হিন্দ বলে স্পিকারের আসন থেকে নেমে আসেন। পাশেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারও কথা হলো না দুজনের। নমস্কার করে বিধানসভা ছাড়ার সময় রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে চিৎকার ওঠে জয় বাংলা। তৃনমূল সম্প্রতি বিজেপির বিরুদ্ধে জয়বাংলাকে পাল্টা স্লোগান হিসাবে ব্যবহার করছে । রাজ্যপাল একটু সময় থমকে দাঁড়ান। তারপরই হনহন করে গাড়িতে উঠে পড়েন। রাজ্যপালের ভাষণের সময় বিরোধীরা ছিলেন না। তাদের বয়কট চলছিল। ফলে বিধানসভায় সকলেই ছিলেন শাসকদলের বিধায়ক।