রানার প্রতিবেদন : শেষপর্যন্ত দীর্ঘ লড়াইয়ে সফল হলো সরকার। হাতের মুঠোয় এলো সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয় ধনকুবেরদের গচ্ছিত অর্থের ঠিকুজি কুষ্ঠি। দীর্ঘদিন ধরেই এই চেষ্টা চালাচ্ছিল ভারত সরকার কিন্তু কিছুতেই ভারতীয়দের আক্যাউন্টের নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে কোমর বেঁধেই মাঠে নেমেছিল তথ্য হাতে পাওয়ার জন্য। শেষপর্য্ন্ত এলো সাফল্য। আজ জানা গেছে গত রবিবার ভারতীয় আধিকারিকদের হাতে এই নথি তুলে দিয়েছে সুইস কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন : অঞ্জলি কেন দেবে ? ওকে পুড়িয়ে মেরে দাও,শুরু হলো নুসরতকে হুমকি

শর্ত একটাই দুদেশের কেউ এই সব তথ্য প্রকাশ্যে আনতে পারবে না। ভারত জানিয়েছে, যারা সুইস ব্যাংকে টাকা রাখেন তাদের সকলের টাকাই কালো টাকা, এমনটা মনে করে না সরকার। কিন্তু সরকার শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে চায়, দেশে কর বিভাগের কাছে তাদের উপার্জনের যে তথ্য তারা দিয়েছে, সেই হিসেবের সঙ্গে সুইস আক্যাউন্টের সঙ্গতি আছে কিনা।


যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল পাখিগুলো উড়ে গেছে আগেই। কারন সুইস ব্যংক কর্তৃপক্ষ প্রথমেই শর্ত দিয়েছিল, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যেদিন স্বাক্ষর হবে তার আগে পর্যন্ত যেসব আক্যাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, সেই সব আক্যাউন্টের কোনও তথ্যই তারা দেবে না ভারতের হাতে। অর্থাৎ, সুইস কর্তৃপক্ষ তাদের কাস্টমারকে দেওয়া আগের রক্ষাকবচ অটুট রাখতে আসল রাঘব-বোয়ালদের জাল ছিড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল। জানা গেছে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবার পর তা স্বাক্ষর হওয়া পর্যন্ত, এই সময়ের মধ্যে ১০০ জন ভারতীয় আক্যাউন্ট হোল্ডার সুইস ব্যংক থেকে তাদের পাততাড়ি গুটিয়ে নিয়েছে।

আরও পড়ুন : বর্তমান ভারতে হিন্দুত্ববাদ নিয়ে কঠোর নিন্দা অমর্ত্য সেনের, প্রশংসা বাংলাদেশের

তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, যে তথ্য পাওয়া গেছে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যগুলোই আগামীদিনে কর বিভাগকে তার ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। কারন, এই আক্যাউন্টগুলোতে শুধু গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ নয়, হাতে আসবে যাবতীয় লেনদেনের খুঁটিনাটি তথ্য। ফলে চোখের আড়ালে আরও একটি বাণিজ্য-অর্থনৈতিক জগৎ আছে কিনা, থাকলে সেটা কেমন এবং তার হদিস পাওয়া এবং তার মোকাবিলা করাও সম্ভব হবে।