Runner Bangla https://runnerbangla.com Bengali News, Latest Bengali News, Bengali Khabor, Bangla Newspaper, Bengali News Headlines, Bengali Top News, Breaking News, Bengal News Fri, 24 Feb 2023 16:15:43 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://runnerbangla.com/wp-content/uploads/2021/03/cropped-Runner-Bangla-Favicon-Large-32x32.png Runner Bangla https://runnerbangla.com 32 32 ভোট ব্যাংকের অংকে সিলেবাস দূষণ উদ্বেগজনক https://runnerbangla.com/vote-bank-politics-school-syllabus/4850/ Fri, 24 Feb 2023 16:15:42 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4850 অম্বর রায় চৌধুরী

পৃথিবীর সমস্ত ভাষাই পাল্টে পাল্টে গেছে। একভাষা থেকে অন্য ভাষায় যোগ হয়েছে শব্দ। ভাষা হয়েছে সমৃদ্ধ। কিন্তু এই পরিবর্তনটা ঘটিয়েছে প্রতিটি ভাষা গোষ্ঠী, তার আপন চাহিদা মোতাবেক। এভাবেই পুস্ট হয় শব্দ কোষ। সম্প্রতি বাংলার ক্ষেত্রে বিষয়টা হয়ত একটু ভিন্ন হয়ে গেছে। এখানে একটি ভাষাগোষ্ঠী যারা একটি জাতির পরিচয় গ্রহণ করে, সেই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় অংশ পরিকল্পিতভাবে নিজেদের ভাষায় যুক্ত করে চলেছে বিদেশি শব্দ।

একই জাতির অন্য অংশটি এই প্রক্রিয়ায় আদৌ যুক্ত নয়। যারা পাল্টে যাচ্ছে তারা ভাষার চাহিদা মেনে পাল্টাচ্ছে না। তারা পোশাকে আশাকে খাদ্যাভ্যাসে এবং চিরাচরিত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার নতুন একটা পরিচয় তৈরি করতে চাইছে। বিতর্কটা এখানেই, যারা এই পরিবর্তন চাইছে না, তাদের ওপর কি সেটা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? বিতর্কটা তৈরি হতো না, যদি বাচ্চাদের পাঠ্যপুস্তকে সেই বিজাতীয় শব্দগুলি যোগ না করা হতো।

নতুবা কে কী খাবে, কে কী পরবে, কে কী ভাষায় কথা বলবে সেটা তার বা তাদের স্বাধীনতা, এখানে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। একারণেই রামধনুর পরিবর্তে রং ধনু কিংবা আকাশি রঙের বদলে আসমানি রং লেখা হয় তখন প্রশ্নতো উঠবেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, তাদের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম। সেই দেশের সরকার তাদের পাঠ্য পুস্তকে কী করবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।

এই রাজ্যে কোনও একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে খুশি করতে যদি স্কুল পাঠ্য বইয়ে এই ধরনের পরিবর্তন আনা হয় তাহলে সেটা যথেষ্ট উদ্বেগের। এমনিতেই রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো লাটে উঠেছে। অযোগ্য লোকেরা টাকা দিয়ে যাতে শিক্ষক হয়ে রাজ্যের শিক্ষাটাকেই চুলোয় পাঠাতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখন পিপিপি মডেলের হাত ধরে ব্যবসায়ীদের ঢোকানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। এই অবস্থায় সিলেবাসে দূষণ ঘটলে চরম বিপর্যয় অনিবার্য।( লেখক একজন প্রাক্তণ শিক্ষক। এই লেখায় যাবতীয় মতামত তাঁর নিজস্ব)

]]>
সুরক্ষা কবচ : ভোটের আগে মমতার নতুন গিমিক https://runnerbangla.com/mamata-banerjee-new-gimik-before-west-bengal-panchayat-vote-2023/4846/ Tue, 03 Jan 2023 15:41:23 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4846 শঙ্কর মন্ডল

শেষ পর্যন্ত পোকা ধরা ধানের উপমা দিয়ে মমতা ব্যানার্জিকে তৃণমূলকে ডিফেন্ড করতে হচ্ছে? আর জিরো টলারেন্সের কথা?আসলে তো এটা শতাব্দীর সেরা জোকস, কারণ মমতা ব্যানার্জি নাকি কনস্টাক্টিভ কাজ করে, ডেস্টাক্টিভ কাজ নাকি উনি করেন নি কোনদিন, এটা শুনে ঘোড়ায় হাসবে। যার সারা জীবনটাই ডেস্টাক্টিভ কাজে ব্যাস্ত থেকেছে, সে এই কথা বলে কি করে? বহু উদাহরণ দেওয়া যায়, তা চম্পলা সর্দারের ঘটনা হতে পারে, সিঙ্গুর আন্দোলন হতে পারে, এবং সর্বোপরি বিধানসভা ভাঙচুর কোন কন্সাস্টিভ কাজ ছিল বলতে পারেন? সুতরাং এদের এই রঙ চরানো, ভাল ভাল কথা, একপ্রকার কুমিড়ের সামনে তার বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য পণ্ডিত সেজে উপস্থিত হওয়া শিয়াল ছাড়া আর কিছুই নয়।

আর নতুন অ্যাপ দিদির দূত বা দিদির সুরক্ষা কবচ তার সাড়ে তিন লক্ষ দূত দশ কোটি লোকের কাছে পৌঁছানোর কর্মসূচি ও কয়েক লক্ষ ডাউনলোডকারী আবার একটা ভোটের নতুন গিমিক ছাড়া আর কিছুই নয়।এর আগে দিদিকে বলো বা অভিষেককে বলো, বা বাংলার গর্ব ইত্যাদির প্রতক্ষ অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা ভালো করেই জানেন। আসলে সত্যি কথা বলতে কি, দিদির দূতেরা তো প্রতিদিনই আপনাদের কাছে আসে, আপনার বাড়িতে এক বস্তা সিমেন্ট কিনে আনুন সঙ্গে সঙ্গে দেখবেন ঐ দূতেরা ঠিক পৌঁছে গেছে।

এই দূতেরাই তো সাদা পাতায় চাকরি দিয়েছেন বাগদার চন্দনের বেশে।এই দূতেরাই তো এতদিন ধরে দোতলা বাড়ির মালিকের নাম আবাস যোজনায় তুলে দিয়েছে, এই দূতেরাই তো এতদিন ধরে ভুয়ো জব কার্ড পাইয়ে দিয়ে প্রকৃত যোগ্য লোকেদের জব কার্ড থেকে বঞ্চিত করেছে।এই দূতেরাই তো কলকাতার অভিজিৎ সরকার থেকে শুরু করে পুরুলিয়ার ত্রিলোচন মাহাতোদের হত্যা করেছে, সুতরাং এতে নতুন কিছু নেই।

আর অন্যদিকে টেলিভিশনে ঞ্জান দেওয়া অথচ কোটি কোটি টাকা রোজগার করা ডাক্তার যিনি আজ পর্যন্ত কোন গরীব মানুষকে সাহায্য করেছেন বলে শোনা যায়নি, ও ব্যক্তিগত পোস্টে পশ্চিমি সংস্কৃতির ন্যায় অশ্লীল বক্তব্য পেশ করেন এমন অভিনেত্রী ও চরম বামপন্থী অভিনেতা কংগ্রেসের তথাকথিত ভারত জোর যাত্রায় হাটলেন,যে কংগ্রেস জন্মলগ্ন থেকেই ভারতকে জোরার পরিবর্তে ভারত তোড় এই স্লোগানকেই প্রতিষ্ঠা করেছে।তাই এককথায় বলতে চাই বাংলা এখন গভীর সঙ্কটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
——–—————
লেখক পরিচিতি:
সভাপতি,সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্ট। (লেখকের মতামত নিজস্ব। )

]]>
সংরক্ষণের উদ্দেশ্য লঘু হবে নতুন সিদ্ধান্তে https://runnerbangla.com/caste-reservation-objectives-reduced-supreme-court-new-decision/4841/ Sat, 12 Nov 2022 08:29:41 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4841 অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণের রায় বিস্ময়কর, যা আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়। যদি “অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে” থাকার বর্তমান সংজ্ঞাকেই অপরিবর্তিত রাখা হয়, তাহলে এই রায় উপযুক্ত বিবেচনার ধারে কাছে নয়। বর্তমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর(OBC) লোকেরা এই সংরক্ষণের সুবিধা পান।

অর্থাৎ এই জনগোষ্ঠীতে যাদের পরিবারে বছরে রোজগার ৮ লক্ষ টাকার কম তারাই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। এই সিধান্ত সমর্থনযোগ্য। কারন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি পরিবারের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় মদতের দরকার হয় না। ব্যতিক্রম এসসি-এসটি ,তাদের ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা হয় না। এবার অর্থনৈতিক মাপকাঠি না পাল্টে জেনারেল কাস্টকেও যদি সংরক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয় তাহলে সেটা হবে এক নিছক রসিকতা।

আদালতের রায় অনুযায়ী বছরে ৮ লক্ষ টাকার কম রোজগেরে জেনারেল কাষ্টের সকলেই দশ শতাংশের আওতায় আসবেন। এই রায়ের ফলে ভারতের প্রায় সমস্ত মানুষই সংরক্ষণ নামক বিশেষ সুবিধার আওতায় চলে আসবেন। কারন প্রায় সমস্ত মানুষের আয় বছরে ৮ লক্ষ টাকার নিচেই। সরকারি হিসেবেই দেখা যায় এরকম মানুষের সংখ্যা দেশে প্রায় ৯৯ শতাংশের বেশি। এটাই যদি তথ্য হয় তাহলে এই সংরক্ষনের কোনও মূল্য থাকে না। কারন সকলকেই যদি সংরক্ষেনের আওতায় আনা হয়, তাহলে এর গুরুত্ব এবং উপযোগীতাই লঘু হতে বাধ্য।

এই নিয়মের কবলে প্রকৃত আর্থিক সংকটে থাকা মানুষরাই দিনের শেষে সেই বঞ্চনার তালিকাতেই থেকে যাবেন। বছরে সাত লক্ষ ৯০ হাজার টাকা রোজগেরে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সুবিধা পাবার লড়াইয়ে তিনিও থাকবেন যার রোজগার বছরে হয়ত এক লক্ষ টাকার কম। সাত লক্ষ টাকা রোজগেরে পরিবারের একজন সদস্য বেড়ে ওঠার জন্য যে পরিকাঠামো পান তারসঙ্গে বছরে এক লক্ষ বা তার কম টাকা রোজগেরে পরিবারের কোনো তুলানাই চলে না।

আর এই সংখ্যাটাও বিপুল এবং সঙ্কটও ভয়ঙ্কর। এদের একাসনে বসিয়ে বিবেচনা যুক্তি-বুদ্ধির পরিধির বাইরে। এই অবস্থায় সরকার কিংবা আদালতের উচিৎ জেনারেল কাষ্টের জন্য সংরক্ষণের সুবিধা চূড়ান্ত করার আগে এই জনগোষ্ঠীর আর্থিক মাপকাঠি নতুন করে নির্ধারণ করা । নতুবা সংরক্ষণের নামে বিভ্রান্ত করা ছাড়া এর অন্য কোনও অর্থ দাঁড়াবে না

]]>
ইউনেস্কো স্বীকৃতি : মমতার মিথ্যাচারের শিকার মা দুর্গা https://runnerbangla.com/durga-puja-unesco-recognition-mamata-banerjee-lies/4834/ Sat, 03 Sep 2022 07:54:17 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4834 শঙ্কর মন্ডল

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অবশ্যই শুধু বাংলা নয়, সমগ্র দেশের গর্ব। আর এর জন্য উপযুক্ত তথ্য পেশ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে হয়েছে, এটা কি অস্বীকার করা যায়? কিন্তু এটা রাজনীতির বিষয় নয়, ব্যাপক দুর্নীতিতে জর্জরিত জনপ্রিয়তায় ভাটা পরা মমতা ব্যানার্জি এই স্বীকৃতিকে এমনভাবে প্রচার করতে চাইলেন যেন মনে হচ্ছে উনি ছিলেন বলেই এই স্বীকৃতি এসেছে।

আসলে মূর্খ তৃণমূল জানেই না এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।আর স্বঘোষিত গুণী মমতা ব্যানার্জি ও তার চটি চাঁটা তল্পিবাহকরা এমনভাবে তাদের নিজেদের পাপকে ঢেকে দিতে চাইছে বা বলা ভাল ফোকাস ঘুরিয়ে দিতে মিছিল করে যে কাণ্ড ঘটালেন তা একপ্রকার রাজনীতির রং লাগানো হল, এটা বলাই যায়।সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের দুর্গা প্রতিমা উপহার দিলেন সঙ্গে কিছু বই, এবং তার মধ্যে বিখ্যাত কবিতা এপাং , ওপাং,ঝপাংও আছে।

আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাননীয়া গাইছেন টাকডুমা ডুম, আর ডিএ না পেয়ে, চাকরী না পেয়ে, মিড ভে মিলের খাবার না পেয়ে মানুষ আজ আতঙ্কগ্রস্ত।আসলে একশ্রেনীর লুম্পেনদের নিজের কাজে লাগানোর জন্য ঐ লুম্পেন সম্বলিত ক্লাবগুলোকে খুশি করতেই এখন ২৫৮ কোটি টাকা খরচ করতে চাইছেন মাননীয়া মূখ্যমন্ত্রী, এমনকি আগামী দিনে মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর ব্যবস্থা করে বিদ্যুতের ছাড় দিচ্ছেন পূজা কমিটিগুলোকে।

যাইহোক আর একটা বিষয় অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, তাই আলোচনা করতেই হচ্ছে, সেটা হল বিজেপি নেতাদের আলটপকা কথা বলার অভ্যাস এখনো অব্যাহত।যেমন দিলীপ ঘোষ তো আছেই কিন্তু সুকান্তর মুখ থেকে এরকম বারবার ভুল বক্তব্য যথেষ্ট দুঃখজনক।

সেই সঙ্গে অনুপম হাজরার প্রকাশ্যে দলীয় নেতার সমালোচনা, যা বিজেপিকে ক্রমশ পিছিয়ে দিচ্ছে, আর এই ফাঁকা জায়গায় উঠে আসছে সিপিএম, কারণ মণ্ডল, জেলা, বুথ সর্বত্র অযোগ্য, লোকেদের নিয়োগ বিজেপির স্বাভাবিক ঘটনা তো বটেই, তার সঙ্গে এখন সহযোগিতা করার জন্য যারা হিন্দুত্ব নিয়ে বা অন্য কোন সামাজিকসংগঠনের ব্যানারে কাজ করছে, তাদেরও অধিকাংশ মাথা দিয়ে জাঙ্গিয়া পরেন।

তাই বাংলার মানুষের ভবিষ্যত অন্ধকার, একদিকে জিহাদীদের মদতপুষ্ট তৃণমূল, যারা ব্যাপক দুর্নীতিতে নিয়োজিত হয়ে কেবল কোটি কোটি টাকা লুটতেই ব্যাস্ত, আর অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদীদের অযোগ্যতা, বিশেষ করে বিজেপির দুর্বল নেতৃত্বের সুযোগে যারা উঠে আসছে, মানে সিপিএম, তারা জিহাদীদের পুরনো বন্ধু, কারণ এদের আদর্শগত দিকটাই হল এক।

(লেখক: সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি)

]]>
সেটিং নয় ব্যাটিং বোঝাতে কালীঘাটে হাত বাড়াচ্ছে বিজেপি https://runnerbangla.com/bjp-raising-kalighat-modi-mamata-meeting/4828/ Sat, 27 Aug 2022 14:57:21 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4828 রানার প্রতিবেদন : দিল্লিতে মোদি-মমতা বৈঠকে কোনও সেটিং হয়নি। মমতা সম্পর্কে কোনও দুর্বলতাও নেই গেরুয়া শিবিরে। এই বার্তা দিতে এখন মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, সেটিং নয় বরং ফ্রন্ট ফুটে ব্যাটিং করার ইঙ্গিত আসছে দিল্লি থেকে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে রাজ্য নেতৃত্বের।

এতদিন শুধু যা কথার আক্রমণে আটকে রাখা হয়েছিল, এবার সেটাকে আইনি পথে আক্রমণ শানানোর চেষ্টায় নেমেছে তারা। গত ২৩ আগস্ট দলের লিগ্যাল সেলের সঙ্গে বৈঠক ছিল রাজ্য নেতৃত্বের। সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য হাজির ছিলেন। সেখানেই ওঠে কালীঘাটের দুর্নীতির প্রসঙ্গ। ব্যানার্জি পরিবার কিভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছে গত দশ বছরে তানিয়ে রাজনৈতিক সভা-সমিতি এবং বিতর্কের আসর গরম হলেও আইনি লড়াইয়ে কেউ যায় নি এখনও।

বিজেপির লিগ্যাল সেল কোমর বাঁধছে এবার। শুরুতে তারা নিশানা করছেন কাজরি ব্যানার্জিকে। যিনি গত পুর ভোটে কালীঘাট থেকে কাউন্সিলার হয়েছেন। তিনি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর ভাতৃবধূ। যিনি ভোটে দাঁড়াবার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম ভর্তির সময় নিজেকে গৃহবধূ হিসাবেই পরিচয় দিয়েছেন। বিজেপির লিগ্যাল সেলের কাছে তথ্য এসেছে, এই গৃহবধূ মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অবৈধ উপায়ে।

তারা বলছেন, বাইপাসের ধারে অভিদীপ্তা আবাসনে একটি সরকারি ফ্ল্যাট তিনি কিনেছেন ১৫ লক্ষ টাকায়। সরকার এই ফ্ল্যাটটি বিক্রির জন্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করে এটি ৬৫ লক্ষ টাকায় বিক্রির সিধান্ত নিয়েছিল। সেই সিধান্ত পাল্টে ১৫ লক্ষ হয়ে গেল কারন ক্রেতার নাম কাজরি ব্যানার্জি। একইভাবে ভবানিপুরে একটি সরকারি দালান বিক্রি হয়েছে। ক্রেতার নাম কাজরি ব্যানার্জি।

দালানটি বিক্রির জন্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ কোটি টাকা। অথচ বিক্রি হলো ১কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। কারন, ক্রেতার নাম ঠিকানা। লিগ্যাল সেলের এক নেতা বলেন, সব কাগজপত্র হাতে চলে এসেছে। দ্রুত মামলার পথে যাচ্ছেন তাঁরা। লক্ষ একটাই, শুরুটা হোক। আইনি জাল ছড়াক। ধীরে ধীরে সেই জালে জড়িয়ে পড়বে ব্যানার্জি পরিবারের একের পর এক সদস্য। এমনটাই আশা গেরুয়ার আইনি শাখার।

]]>
ডিয়ার লটারি : বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারি তৃণমূলের, মানুষকে সর্বস্বান্ত করে চলছে লুট https://runnerbangla.com/dear-lottery-trinamool-congress-huge-financial-scam-west-bengal-loot/4815/ Fri, 29 Jul 2022 10:06:12 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4815 শুভেন্দু অধিকারী : কেন্দ্রে অমিত শাহজির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া পদক্ষেপের ফলে গরু পাচার, কয়লা চুরি করতে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এবং আমদানিতে টান পড়ায়, এক নতুন পন্থা আবিষ্কার করে দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত পিসিমণির তোলাবাজ ভাইপোর উর্বর মস্তিষ্ক।

সুপরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত লটারি ব্যবসাকে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে, রাজ্যে ধূমকেতুর মতো উত্থান ঘটানো হয় ‘ ডিয়ার লটারি -র’। এটি চিটফান্ডের মত আরেকটি স্ক্যাম। আড়ে-বহরে চিটফান্ড কান্ড থেকেও আর্থিক ভাবে অনেক বেশি বড় আকারের দুর্নীতি।

পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আবারও একবার সর্বস্বান্ত করার ফাঁদ পেতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার পন্থা হলো সংগঠিত আইনি জুয়া।

এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে কাজকর্মের অভাব, রুজি-রুটিতে টান। বেকারের সংখ্যা প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন রেকর্ড গড়েছে। এমতাবস্থায়, ভাগ্যের হাল ফেরাতে ও সংসারের চাহিদা মেটাতে অনেকেই লটারির দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু মাদকের সমতুল্য এই নেশা। ক্ষতি হচ্ছে বুঝেও একটা সময়ে ফেরার জায়গা থাকে না গ্রাহকদের। রোজ হারলেও একটা বড় সংখ্যার ক্রেতা জেতার আশায় রোজ খেলে যায়।

তোলাবাজ ভাইপো ঠিক এই সুযোগের ফায়দা তুলতে তৎপর হয়। সহজে উপলদ্ধ করতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় লটারির ব্যবসা কে। বাড়ানো হয় স্টকিস্ট, সাব-স্টকিস্টের সংখ্যা। এক একটি মহকুমায় নাকি বিক্রেতার সংখ্যা লক্ষাধিক পেরিয়েছে। শহরের ব্যস্ত মোড় হোক অথবা কানা গলি, প্রত্যন্ত গ্রামের ছাদহীন গুমটি দোকান, প্রায় প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, সর্বত্র লটারি বিক্রেতার দর্শন মেলে সহজেই।

কমপক্ষে দিনে এক কোটি টাকার উপর টিকিট বিক্রি হচ্ছে একটি মহকুমাতেই। সারা রাজ্যে সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে অনুমান করে দেখুন। একবার পরিকাঠামো গড়ে ফেলার পর শুরু হয় আসল খেলা। অধিকাংশ দিনই প্রথম পুরস্কার বা বড় অঙ্কের পুরস্কার উঠছে অবিক্রিত টিকিটের উপর৷ লটারির বিক্রেতা থেকে ক্রেতা, সকলেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। যে টিকিট পাওয়াই যাচ্ছে না সেই টিকিটেই নাকি প্রায়শই প্রথম পুরস্কার উঠছে ৷

প্রশ্ন উঠছে, যে টিকিট বিক্রিই হচ্ছে না, সেই টিকিটে খেলা হচ্ছে কী করে ? কিন্তু এর কোনও সদুত্তর নেই।
কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে প্রতিমাসে। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে তোলা হচ্ছে এই টাকা। এ এক বিরাট দুর্নীতি।

আবার এমনও হচ্ছে কে পুরস্কার জিতবে তার লিস্ট আগে থেকেই তোলাবাজ ভাইপো নির্ধারিত করে দিচ্ছে। নয়তো, বীরভূমের বাহুবলী গরু পাচারকারী নেতা লটারিতে ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছে, এমন খবর চাউর হয় কী করে?

আমি সবাই কে অনুরোধ জানাই, তোলাবাজ ভাইপোর এই অনৈতিক ব্যবসার ফাঁদে পা দেবেন না। আপনাদের কষ্টার্জিত টাকা মেরে ফুলে ফেঁপে উঠছে। কোনোদিন টিভির পর্দায় দেখবেন আপনাদের থেকে লুটে নেওয়া টাকা উদ্ধার হচ্ছে কোনো বিলাসবহুল আবাসন থেকে আর টাকা গোনার মেশিন নিয়ে আধিকারিকরা বেশ কয়েক দিন ধরে তা গুণেই চলেছেন; প্রথম, দ্বিতীয়….একশত তম রাউন্ড….

( লেখক পরিচিতি: বিজেপি বিধায়ক এবং রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা )

]]>
রাজ্যপালকে ছাড়াই বাজেট অধিবেশন? রাস্তা বন্ধ করে দিল রাজভবন https://runnerbangla.com/governor-prorogued-west-bengal-assembly/4812/ Sat, 12 Feb 2022 09:12:33 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4812 বিধানসভা স্থগিত করলেন রাজ্যপাল। এবছর জানুয়ারিতে দুদিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল, সেই অধিবেশন স্থগিত না করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুলতুবি করে রাখা হয়েছিল। রাজ্যপাল সেটা স্থগিত করে দিলেন। ফলে আবার অধিবেশন শুরু করতে হলে, এবার রাজ্যপালকেই সেই অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভায় বাজেট ( Vote on Account কিংবা অন্তর্বর্তী বাজেট) পাশ হয়েছিল। কারন সামনেই ছিল বিধানসভা ভোট। সেই অধিবেশন বসেছিল রাজ্যপালকে ছাড়াই। নিয়ম অনুযায়ী বাজেট অধিবেশন আহ্বান করেন রাজ্যপাল। উদ্বোধনী ভাষণও দেন তিনি।


গত বছরের এই নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। স্পিকার জানিয়েছিলেন, বিধানসভায় সর্বশেষ যে অধিবেশন বসেছিল সেটা অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুলতুবি ছিল ( sine die) কিন্তু অধিবেশন স্থগিত করা ( prorogue) হয়নি। ফলে নতুন করে রাজ্যপালকে দিয়ে অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হয়নি।


রাজ্যপালের দাবি, একটি অধিবেশন থেকে আর একটি অধিবেশনে যেতে হলে আগের অধিবেশন স্থগিত (prorogue)করতে হয়। আবার সামনেই কড়া নাড়ছে বাজেট অধিবেশন। অথচ গত মাসের শেষ সপ্তাহে যে স্বল্পকালীন বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল, সেটা এখনও prorogue করা হয়নি। অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি রাখা হয়েছে। স্পিকার চাইলে সেই অধিবেশন ডেকেই গত বারের মতো বাজেট পাশের সুযোগ দিতে পারেন। এই অবস্থায়, বাজেট অধিবেশনের আগে রাজ্যপাল গত মাসে ডাকা বিশেষ অধিবেশন prorougue করে দিলেন। এবার অধিবেশন বসাতে হলে রাজ্যপালকেই ডাকতে হবে। ফলে গত বছরের মতো রাজ্যপালকে ছাড়াই বাজেট অধিবেশনের সম্ভাবনা বিনষ্ট করে দিলেন রাজ্যপাল।

]]>
বিহার-উত্তর প্রদেশ মডেলে, নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলায় বড় আন্দোলন জরুরি https://runnerbangla.com/bihar-and-up-model-employment-calls-for-immediate-protests/4807/ Sun, 06 Feb 2022 12:52:06 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4807 দীপঙ্কর ভট্টাচার্য

বিহারের চলমান যুব আন্দোলন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কতখানি আলোড়ন তৈরি হয়েছে আমি জানি না। তবে খুব সামনে থেকে আন্দোলনটিকে দেখে মনে হচ্ছে, এটির মধ্যে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হওয়ার যাবতীয় মশলা মজুত রয়েছে। অভূতপূর্ব এর ব্যাপ্তি। এক কোটিরও বেশি চাকরিপ্রার্থী, তাঁদের পরিবারবর্গকে ধরলে প্রায় ৪-৫ কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন অন্য চাকরিপ্রার্থীরা। সব মিলিয়ে এক যুবসমাজের এক বিরাট অংশ ক্ষুব্ধ, উত্তেজিত এবং মরিয়া। বিহারের সর্বত্র প্রতিবাদের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। পাশের রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। এত বড় আন্দোলন হওয়াতে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা হয়ত ঘটছে, কিন্তু সার্বিকভাবে এটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। অত্যন্ত পরিণত রাজনৈতিক বুদ্ধির পরিচয় রাখছেন যুবকরা। সব মিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে এর মধ্যে ১৯৭৪ সালের সেই ঐতিহাসিক যুব ছাত্র আন্দোলনের মতো অভিঘাত তৈরির যাবতীয় মশলা মজুত রয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই উচ্চতায় পৌঁছবে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু আমাদের মত লোকজন, যারা বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আশাবাদী হয়ে ওঠার মত যথেষ্ট উপাদান রয়েছে এতে।

আমাদের দল সিপিআইএমএল লিবারেশনের ছাত্রযুবরা আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন। বিহারের শেষ বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের দলের বেশ কয়েকজন তরুণ কমরেড নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সামনে থেকে প্রতিবাদীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিহার বনধের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠন আইসা। আমরা লিবারেশনের পক্ষ থেকে সেই ডাক সমর্থন করেছি। পরে রাষ্ট্রীয় জনতা দল সহ মহাগঠবন্ধনও বনধ সমর্থন করেছে। সব মিলিয়ে লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। লাল পতাকা সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে।

আসলে বিহারে কর্মসংস্থানের প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রশ্নটি আমরা, বিরোধীরা তুলে ধরেছিলাম। পাশের রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও বেকারত্ব নিয়ে ক্ষোভ বিপুল। ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে, হিন্দু মুসলমানের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণার পরিবেশ গড়ে তুলে বিজেপি জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে আড়াল করতে চাইছে। খানিকটা সফলও হয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলন প্রমাণ করছে, মানুষ তার বুনিয়াদি সমস্যাগুলোকে নিয়ে চিন্তিত। বারুদের স্তুপ ছিল, দরকার ছিল একটা দেশলাইয়ের।

এই আন্দোলনের শুরুটা কিন্তু খুব রাজনৈতিক ছিল না। ১৫ জানুয়ারি রেলের নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটিগরির পরীক্ষার প্রথম ধাপ বা সিবিটি-১ (কম্পিউটার বেসড টেস্ট)-এর ফলাফল প্রকাশ করে রেলের নিয়োগ বোর্ড। দুম করেই জানানো হয় সিবিটি-২ পরীক্ষা শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় তারপরেই। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালে ওই পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি যখন প্রকাশিত হয়েছিল, সে সময়ে শুধু সিবিটি-১-এর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ফলপ্রকাশের পরে সিবিটি-২-এর কথা ঘোষণা করেছে রেল, যা নিয়মবিরুদ্ধ। এর পিছনে রেলের আধিকারিকদের দুর্নীতি ও অনিয়ম রয়েছে — এই অভিযোগে সরব হয়ে পথে নামেন পরীক্ষার্থীরা। বিহার হয়ে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আমাদের কমরেডরা দ্রুত প্রতিবাদরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ান। গোটা বিহার উত্তাল হয়ে ওঠে। আমাদের জোরদার সংগঠনের জায়গা আরার হাজার হাজার যুবক যুবতী আন্দোলনে শামিল হয়। গয়া, পাটনা, জেহানাবাদ, ভাগলপুর, সাসারাম — সর্বত্র বিক্ষোভ ছড়ায়।

উত্তরপ্রদেশেও আগুন জ্বলছে। প্রয়াগরাজ সহ কয়েকটা জায়গায় বিরাট বিরাট বিক্ষোভ হয়েছে। প্রয়াগরাজে পুলিশ ছাত্রদের হোস্টেলে ঢুকে ঘরের দরজা ভেঙে পিটিয়েছে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন পরেই উত্তরপ্রদেশে ভোট। তাই বিজেপিও দ্রুত এর ক্ষতি সামলাতে নেমেছে। তড়িঘড়ি তিনজন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু এসব করে আর লাভ হচ্ছে না।

এই লেখার ফাঁকে দেখছি, খবর পাচ্ছি, হাজার হাজার যুবক বিহার জুড়ে মিছিল করছেন বনধের সমর্থনে। আমি নিশ্চিত, পুলিশ দমনপীড়ন করলে তাঁরা রুখে দাঁড়াবেন। পশ্চিমবঙ্গেও নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি রয়েছে, কর্মসংস্থানের দাবিতে প্রতিবাদ রয়েছে। তাকে বড় আন্দোলনের চেহারা দিতে হবে। বিজেপি প্রধান বিরোধী দল। তারা কিছু করবে না, তাদের করার নৈতিক অধিকারও নেই। এই দায়িত্ব বামপন্থীদের। আশা করি, বাংলাতেও আমরা, বামপন্থীরা এই দায়িত্ব পালন করব। এই রকমের আন্দোলন গড়ে তুললেই বিরোধী হিসাবে জায়গা ফিরে পাওয়া সম্ভব, বিজেপিকে আরও কোণঠাসা করা সম্ভব।

২০২০ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসে এনআরসি-এনপিআর বিরোধী ঐতিহাসিক প্রতিবাদের ছবি এঁকেছিল শাহীনবাগ। ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনকারীরা রাজধানী দখল করে নিয়েছিলেন। আর ২০২২ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রতিবাদের আগুন জ্বেলে দিলেন চাকরিপ্রার্থী যুবকরা। এই হল আমাদের দেশ। ফ্যাসিবাদকে এক ইঞ্চি জমিও এই দেশের সাধারণ মানুষ ছেড়ে দেবেন না। যে সাধারণতন্ত্রকে লুঠ করা হয়েছে, এই রকম গণআন্দোলনের ঢেউ তাকে পুনরুদ্ধার করবে।( লেখক সিপিআই-লিবারেশন-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক)

]]>
ভাঙরে নতুন বিমান বন্দর: জমি অধিগ্রহণ নীতি পাল্টে ফেলবে রাজ্য সরকার? https://runnerbangla.com/airport-to-be-established-in-bhangor/4802/ Wed, 26 Jan 2022 16:24:35 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4802 মহম্মদ নওশাদ সিদ্দিকী

সংবাদসূত্রে প্রকাশ, কলকাতা সংলগ্ন ভাঙড়ের এক বিশাল অঞ্চল জুড়ে একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করার তোড়জোড়ে ব্যস্ত রাজ্য সরকার।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ ভাঙড়ই কেন? ওয়াকিবহাল সূত্রে জানা যাচ্ছে এই বিমানবন্দর হলে অন্তত পনেরো থেকে কুড়িটি গ্রামের অস্তিত্ব লোপ পাবে। এইসব গ্রামের হাজার, হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু পিছড়ে বর্গের মানুষ, তাঁরা যাবেন কোথায়? বোঝা যাচ্ছে যে বিমানবন্দর তৈরির নামে তিন-চার অতি উর্বর ফসলী জমি অধিগ্রহণ হবে, মানুষের কৃষি জমি চলে যাবে। এটা আবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। বর্তমান রাজ্যসরকার কি তার ঘোষিত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নীতি থেকে সরে আসছেন? এটা একটা খুব সঙ্গত প্রশ্ন। আমরা দেখেছি, পাশেই রাজারহাটে হাজার, হাজার বিঘে জমি অধিগ্রহণ করে ওখানকার গরীব সংখ্যালঘু-নিম্নবর্গের মানুষদের নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই মানুষদের সিংহভাগ অংশের কি অবস্থা আমরা সকলেই জানি। বৃহত্তর চিত্র তো এটাই। কেউ অস্বীকার করতে পারবেন? ভাঙড়েও সেই পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত।


এই বিশাল এলাকায় মানুষের প্রয়োজন শিক্ষার পরিকাঠামো, প্রয়োজন স্বাস্থ্যের অত্যাধুনিক ব্যবস্থা, প্রয়োজন কর্মসংস্থান। ভাঙড়ে উর্বর কৃষিজমি আছে, সেখান থেকে উৎপাদিত শাকসবজি কলকাতা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে যায়। এমনকি ভিনরাজ্য কিংবা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কি এমন হলো সরকারের নীতিতে যে তারা এইরকম পদক্ষেপ নিতে চলেছে, যেখানে এধরনের ফলনশীল জমি নষ্ট করতেও তারা পিছপা নয়?আমরা সদুত্তর চাই। ভাঙড়ের ওপর দিয়ে চারটি খাল বয়ে যাচ্ছে। এগুলি দিয়ে কলকাতার বর্জ্য, দূষিত জল বয়ে যাচ্ছে। এই খালগুলির জন্য বহু বিঘা তিন ফসলী জমি ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়েছে। এই খালগুলি পরিবেশ দূষিত করছে। পরিনত হয়েছে ম্যালেরিয়ার আঁতুড়ঘরে। প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এই রোগে। কিন্তু খালগুলির বিনা সংস্কারে নোংরা, দূষিত জল বয়ে নিয়েই চলেছে। ভাঙড়ের বুকে তৈরি হল চর্মনগরী, যদিও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হল না। তাদের ঐ চর্মনগরীতে কাজে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হল না। উপরন্তু এই চর্মনগরী তৈরি হল সেই কৃষিজমি নষ্ট করেই। আবার, রাজারহাট-নিউটাউনের পাওয়ার গ্রিড বসিয়ে দেওয়া হল ভাঙড়ের কৃষি জমির ওপর তার দশ শতাংশ জমি গাজীপুর মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি। সুতরাং, দেখাই যাচ্ছে দিনদিন জমি কমেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়াকফ জমিও বেহাত হচ্ছে।


আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই, সিঙ্গুরে বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অন্ডালের বিমানবন্দরকে সঠিকভাবে ব্যবহারের উপযুক্ত করুন। উত্তরবঙ্গে কোচবিহার বিমানবন্দর চালু করুন। আগে ভাঙড়বাসীর মৌলিক চাহিদা পূরণ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিন। রেলের মানচিত্রে ভাঙড়ে সংযুক্তিকরণের উদ্যোগ নিন, হাসপাতাল পরিকাঠামো উন্নত করুন, চাষীদের জন্য উন্নতমানের হিমঘর তৈরির ব্যবস্থা করুন। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আপনাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবো। কিন্তু জোর করে জমি নিয়ে বিমানবন্দর বানানোর নামে সংখ্যালঘু পিছড়ে বর্গের মানুষদের ভিটেমাটি ছাড়া করে উচ্চবর্গীয় নগরায়ন আমরা কোনো অবস্থাতেই মানবো না।
( লেখক ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এবং ভাঙর বিধান সভার বিধায়ক)

]]>
আর একমাস পর রাজ্যে নিম্নগামী হবে করোনার তান্ডব https://runnerbangla.com/omicron-pandemic-to-last-another-mont/4797/ Sun, 16 Jan 2022 11:49:31 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4797 কলকাতা: ওমিক্রনএর চরিত্র বলে দিচ্ছে আরো একমাস এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে পশ্চিমবঙ্গে। করোনা ভাইরাস এর নতুন স্ট্রেন ওমিক্রণ প্রথম আঘাত হানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। তারপর ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্রিটেনে শুরু হয় তান্ডব। গতকাল ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে ভাইরাসের প্রকোপ এবার কমতে শুরু করেছে তাদের দেশে ।

একই খবর এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে ঝড়ের গতিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে এবার সেভাবেই ঝড়ের গতিতে নিম্নমুখী হবে এই ভাইরাসের আক্রমণ। প্রায় দুই মাসের মত ধরে দাপট দেখিয়েছে করো না। অর্থাৎ ব্যাপকহারে যেভাবে ছড়িয়েছে, সেভাবেই এবার নিম্নগামী হতে শুরু করল। পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাব প্রথম লক্ষ্য করা যায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। চিকিৎসকরা বলছেন, সেই অংক করলে এ রাজ্যে অন্ততপক্ষে আরো একমাস করোনার তান্ডবকে রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে ।

চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, তৃতীয় ঢেউ দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়লেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো এতো ভয়ংকর হতে পারেনি। তার কারণ করোনার সঙ্গে লড়তে লড়তে মানবদেহে হার্ড ইমিউনিটি যে তৈরি হয়েছে তৃতীয় ঢেউ থেকেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সম্ভবত তৃতীয় ঢেউয়ের থেকেই শুরু হলো করোনার অন্তর্জলী যাত্রা।

দেশ-বিদেশের বহু চিকিৎসকের দাবি, করোনার তৃতীয় ঢেউ অমিক্রণ আসলে প্রকৃতির অবদান। গণ তিকাকরন কর্মসূচি হয়ে গেল এর হাত ধরেই। যে সমস্ত রুগীর কো মর্বিডিটির প্রকোপ রয়েছে উচ্চহারে, একমাত্র তাদেরকেই ভুগিয়েছে ওমিক্রন। বাকি সিংহভাগ রোগীর দেহে উপসর্গ ছিল সীমিত। কার্যত টিকার ভূমিকা নিয়েছে এই ভাইরাস । যে টিকাকরণ কর্মসূচি মানবদেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরিতে সাহায্য করেছে। এরপর করোনা আর মানবজাতিকে কাবু করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, হয়তো করোনার দাপট কমতে শুরু করার প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে ওমিক্রণ এর আত্মপ্রকাশের হাত ধরেই।

]]>