রানার প্রতিবেদন : কোথাও ৫০ হাজারের ওপরে, কোথাও ৪৫ হাজারের ওপরে লিড ছিল, কোথাও ছিল সমানে সমানে টক্কর। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই সব ভেস্তে গেল ? এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। রাজ্য নেতৃত্ব দুদিন ধরেই কাটাছেঁড়া করছেন এই ফল নিয়ে। সকলের একটাই উপলব্ধি, এনআরসি নিয়ে তৃণমূলের প্রচারের মোকাবিলা করতে পারেননি তারা। কেন পারেননি ? এই প্রশ্নটাই আসল হয়ে উঠেছে দলের সামনে। প্রতিপক্ষের প্রচার মেশিনারিকে মোকাবিলা করার মতো পাল্টা মেশিনারি ও ক্ষমতা যদি নাই থাকে তবে ২১ দিবাস্বপ্ন হয়েই থাকবে।


এই ফলাফল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বিজেপি ছয় মাস আগে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, সেখান থেকে একঝটকায় মাটিতে ফেলে দিয়েছে তৃনমূল। ১২২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে বিজেপি, লোকসভা ভোটের নিরিখে এই হিসাব কষা হচ্ছিল এতদিন। দিল্লি নেতৃত্ব মনে করছে, ওই হিসাব এখন বাজে কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দিয়ে নতুন করে মাঠে নামতে হবে বিজেপিকে। দলকে যে এডভান্টেজ দেওয়া গেছিল সেটা সাময়িক ভাবে নষ্ট হলো বলে মনে করছেন অনেকে। কেননা, তৃণমূলকে যেভাবে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দেওয়া গেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে দিল এই ভোট। তৃণমূলকে রাস্তা করে দেওয়ার জন্য, দল কতটা দায়ী, সেটাও খোঁজা হচ্ছে এখন।


দিল্লির সাফ কথা, তৃণমূলকে বেশিদিন স্বস্তিতে থাকতে দেওয়া যাবে না। দ্রুত তৈরি করতে হবে পাল্টা রণকৌশল। দল মনে করছে, নাগরিক বিল পাশ হলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। ডিসেম্বরেই পাশ হবে বিল। আর সংগঠন? অন্তর্তদন্ত শুরু হবে দ্রুত। চটজলদি ভোটের ফল নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিতে বলেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেই রিপোর্ট তৈরি করতে দিলীপ ঘোষের পৌরহিত্যে ৩০ নভেম্বর বিকেলে বৈঠকে বসছে রাজ্য নেতৃত্ব। তারা একটা প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করে পাঠাবেন দিল্লিতে।