রানার প্রতিবেদন : কলকাতা সহ পাঁচ জেলার জন্য আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ভিন্ন রণকৌশল তৈরির সিধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতা, ওই পাঁচ জায়গায় আলাদা করে সংগঠন,প্রচার এবং আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির সিধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গ বিজেপির দুহাত ভরিয়ে দিলেও কার্যত খালি হাতে ফিরিয়েছে এই পাঁচ জেলা। আগামী পুরভোটের কথা মাথায় রেখেই এই সিধান্ত। পুরভোটের আগেই ঘর গুছিয়ে উঠতে না পারলে বিধানসভা ভোটেও দলকে খেসারত দিতে হবে, বুঝতে পারছেন রাজ্য নেতৃত্ব। এই কারনে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সংগঠনের ওপর। বাস্তবিক কারনে এই জেলাগুলোতে একশ শতাংশ বুথে কমিটি তৈরি প্রায় অসম্ভব, এটা মনে গেরুয়া শিবির। কারন এই জেলা গুলোতে এমন অসংখ্য জায়গা আছে যেগুলো মুসলিম অধ্যুষিত, যারা বিজেপি নয়, আপাতত শাসকদল তৃণমূলের কট্টর ভোটার হিসাবেই নিজেদের সংগঠিত করে তুলেছে।


বলা হয়েছে, যেসমস্ত বুথে কমিটি তৈরি করা অসম্ভব হচ্ছে, সেই জায়গাগুলিকে বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত জায়গায় এমনভাবে বুথ কমিটি তৈরি করতে হবে, যা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মতো উপযুক্ত একটি কমিটি তৈরিই হবে মূল লক্ষ। এবং এটা একশ শতাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত করতে হবে। কমিটি যেন শুধুমাত্র কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। নূন্যতম ২৫-৩০ জন থেকে উর্ধে যত বেশি সম্ভব কর্মী নিয়ে এই কমিটি তৈরি করতে হবে। আগামী মার্চের মধ্যে কমিটি তৈরি শেষ হলে, তারপর টানা একবছর এই কমিটি সদস্যরা এলাকার হাজার থেকে বারোশ ভোটারের বাড়ির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলবে।


বুথ কমিটিগুলো এলাকার সমস্যা এবং দাবি নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট দেবে মন্ডলে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে মন্ডল এলাকায় প্রচার ও আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। এক্ষেত্রে যেখানে বুথ কমিটি নেই কিংবা বুথ কমিটি দুর্বল সেই জায়গাগুলোকেও প্রচার এবং আন্দোলন কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এই প্রচার এবং আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব থাকবে মন্ডল নেতৃত্বের ওপর। ধারাবাহিক এই প্রক্রিয়া চালাতে পারলে সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতেও ভবিষ্যতে পা রাখা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘু এলাকা গুলিতে আলাদা করে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সংখ্যালঘু মোর্চার ওপর। তারা ওইসব এলাকায় যাবেন ঘরে ঘরে প্রচার করতে। তাদের কাছে বার্তা দেবেন, বিজেপিকে নিয়ে সংখ্যালঘু এলাকায় যে আতংক ছড়ানো হচ্ছে তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। ভারতবর্ষের কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্যে সংখ্যালঘুরা বিপন্নতো নয়ই বরং আর্থিক উন্নয়নের মাপকাঠিতে তারা পশ্চিমবঙ্গের থেকে অনেক এগিয়ে। একইসঙ্গে এনারসি নিয়েও ভারতীয় মুসলিমদের অহেতুক আতঙ্কগ্রস্থ করা হচ্ছে। একজন ভারতীয় মুসলিমকেও সমস্যায় পড়তে হবে না এনআরসির কারনে। বরং অনুপ্রবেশকারীদের জন্যই আজ রাজের সংখ্যালঘুদের সুযোগ সুবিধায় টান পড়ছে।