রানার প্রতিবেদন : লাল-হলুদ সেলোয়ার কামিজ পরা মেয়েটির নাম নাফিসা। তার বা দিকে গাঘেষে দাঁড়ানো মানুষটির নাম আজিজুল হক। নাসিফার হাতে আমের পল্লব আর মাটির পাত্রে গঙ্গা জল। ছিলেন খোকন মিয়াও। কারো হাতে গোবর কারো হাতে ঝাড়ু। উলু ধ্বনি আর শঙ্খ ধ্বনির মধ্যে দিয়ে নাসিফা, আজিজুল, খোকন মিয়ারা হাত লাগলেন পবিত্র যাত্রায়। কে এই নাসিফা, আজিজুল কিংবা খোকন মিয়া? এরা সব তৃণমূলের নেতা নেত্রী। নাসিফা হলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহ সভানেত্রী, তিনি জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি জলিল মিয়ার মেয়ে। আজিজুল এক নম্বর ব্লকের তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি আর খোকন মিয়া ওই ব্লকের সভাপতি। বিজেপির রথযাত্রার সভা আয়োজন করা জয়েছিল যেমাঠে সেই ঝিনাইডাঙ্গার মাঠ , এক নম্বর ব্লকের অন্তর্গত।


তৃণমূল আগেই জানিয়েছিল বিজেপি রথ যাত্রা করলে তারাও ওই যাত্রা পথে পবিত্র যাত্রা করবে। তাদের দাবি ছিল বিজেপির রথ যাত্রায় যে অপবিত্রতা তৈরি হবে তারা সেই অপবিত্রতা দূর করে তা পবিত্র করবেন হিন্দু রীতি মেনে। মন্ত্রচারণ, উলু, শঙ্খ, গোবরছড়া হবে পবিত্র করার অনুষঙ্গ। বিজেপির রথ না হলেও তৃণমূলের পবিত্র যাত্রা হলো একেবারে হিন্দু রীতি মেনে। তাদের বক্তব্য রথ না হোক, বিজেপির জমায়েতের ফলেই অপবিত্র হয়েছে কোচবিহারের ঝিনাইডাঙ্গার মাঠ। তাই হিন্দু রীতি মেনে পবিত্র করতে হলো। কারা হিন্দু রীতি মেনে পবিত্র করলেন? নাসিফা, আজিজুল আর খোকন মিয়ার মতো একদল মানুষ। নাম গুলো শুনে বিজেপি নেতারা বলছেন, এটাও বিজেপির জয়। এই দলই বলে আসছে হিন্দুত্ব কোনও ধর্মীয় আচারের নাম নয়, এটা ভারতীয় সংস্কৃতি। সেটাকেই গ্রহণ করেছে নাসিফা-আজিজুলরা।